বিদায়ী ও নতুন বছর নিয়ে বিএনপি হাইকমান্ডের ভুল ছিল: তৃণমূল নেতা বিষ্ট কুমার, এর মধ্যেও আমরা টিকে আছি: মির্জা ফখরুল

২০১৬ কেমন ছিল বিএনপির জন্য? নতুন বছরে রাজনীতি কোন দিকে যেতে পারে? এসব নিয়ে প্রথম আলো আলাদাভাবে কথা বলেছে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একজন এবং তৃণমূলের একজন নেতার সঙ্গে। এই দুজন হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ট কুমার সরকার। তৃণমূলের নেতা বিষ্ট কুমার মনে করেন, বিএনপির হাইকমান্ডের নেতৃত্বে ভুল ছিল। আর মহাসচিব বলেন, বিরূপ পরিবেশের মধ্যেও বিএনপি টিকে আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিয়াদুল করিম। ঢাকা থেকে মুঠোফোনে বিষ্ট কুমার সরকারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী আলিম-উজ-জামান

নিজ বাসায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: খালেদ সরকারপ্রথম আলো: ২০১৬ বিএনপির জন্য কেমন গেল?

বিষ্ট কুমার সরকার: তৃণমূলে বিএনপির জন্য অনুকূলে ছিল বিদায়ী বছরটা। তবে হাইকমান্ডের নেতৃত্বের ভুল ছিল। ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপির জন্য এ বছরটা সব সময় অনুকূলে ছিল, বলা যাবে না।

মির্জা ফখরুল: ২০১৬ বিএনপির জন্য আলাদা করে বলার কিছু নেই। ২০০৮ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই দুঃখজনক যে কাজটি শুরু হয়েছে, সেটি হচ্ছে বিএনপিকে একেবারেই কোণঠাসা করা শুধু নয়, তাকে নির্মূল করে দেওয়ার বড় রকমের নকশা তৈরি করা হয়েছে।
বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তারা বিভিন্ন রকম কাজ করার চেষ্টা করছে। 
বর্তমানে বিএনপির এমন একজন নেতা নেই, ইউনিয়ন পর্যন্ত, যাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই। আমাদের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত মামলায় জর্জরিত। কয়েক বছরের হিসাব অনুযায়ী, আমাদের প্রায় এক হাজারের বেশি নেতা-কর্মী পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন। আমাদের প্রায় ৫০০ জনের বেশি নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতারা পর্যন্ত ছিলেন।
এই মামলা-খুন-রাহাজানি, এর মধ্যেও আমরা টিকে আছি। ২০১৬ সালে আমরা মার্চ মাসে একটা কাউন্সিল করেছি। এই কাউন্সিলের পারমিশন আমাদের মাত্র দুই দিন আগে দেওয়া হয়েছে ভেন্যুর জন্য। ঠিকভাবে আমরা কোনো কাজই করতে পারি না। যেসব পত্রিকা আমাদের খবর দিত, সে পত্রিকাগুলোর ওপর নানা রকম চাপ সৃষ্টি করে, কয়েকটিকে বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও একই অবস্থা। আমরা যে কথাগুলো বলতে চাই, সেগুলো সেভাবে আসে না।
অনেকগুলো জেলাতে আমাদের কাউন্সিল হয়ে গেছে। আমরা অঙ্গসংগঠনগুলোকে সাজানোর চেষ্টা করছি। আমরা স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জানি যে কী অবস্থা, তারপরও আমরা অংশগ্রহণ করেছি দলকে নির্বাচন-প্রক্রিয়ার মধ্যে সচল রাখার জন্য। ইলেকশন কমিশন (ইসি) নতুন যেটা গঠন হবে, সে সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দিয়েছেন। এটা নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই কিন্তু আমাদের উদ্যোগের ফলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন এটা নির্ভর করবে পুরোপুরি সরকারের ওপর। সরকার যেহেতু চালিকাশক্তি, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কী করবে। তারা কি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ ইলেকশন কমিশন করবে? নাকি তারা একেবারে আগের মতোই...সার্চ কমিটিই বলুন আর যেটাই বলুন, এটা সরকারের ওপর নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী, তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি দেশটাকে কীভাবে পরিচালনা করতে চান। তিনি যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করতে চান, তাহলে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করার সেই সুযোগটুকু করে দেবেন। আজকে দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, ২০১৬ সালের শেষ দিকে এসে বাংলাদেশে সে সুযোগ নেই। আমাদের একটা মিছিল করতে অনুমতি নিতে হয়। জেলায় কাউন্সিল করার ভেন্যু পর্যন্ত পাই না। বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়।
আমরা প্রতিবাদ করছি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণভাবে যেভাবে প্রতিবাদ করা দরকার, করছি। আন্দোলন বলতে কিন্তু শুধু রাস্তায় নেমে এটাই নয়। আন্দোলন কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জনমত তৈরি করা। সেটা আমরা করার চেষ্টা করছি।

প্রথম আলো: কাউন্সিলের আগে আপনারা বলেছিলেন, বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠবে। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে বলে মনে করেন?

বিষ্ট কুমার সরকার: বিএনপি ফিনিক্স পাখি কেন, আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পারে, নতুন কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারেন।
কেন্দ্রীয়ভাবে যেহেতু এখনো কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি, তাই আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না, তারা জেগে উঠতে পেরেছে কি না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নতুন কমিটি যদি কর্মসূচি দেয়, তখন বলতে পারব, তারা কতটা জেগে উঠতে পেরেছে।

মির্জা ফখরুল: কেন পারেনি? আপনারা এভাবে জিনিসটাকে দেখছেন কেন? এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি যে এখনো টিকে আছে, বিএনপি যে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে এত বিতর্ক, এর মধ্যেও সে নির্বাচনে বিএনপি ৯৬ হাজার ভোট পেয়েছে। এটাকে আপনারা নেতিবাচকভাবে দেখছেন কেন? এটি অবশ্যই ইতিবাচক লক্ষণ। বিএনপিকে তো অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়।
সব সময় যদি ধারণা করা হয়, এই দলটাকে আমরা পিষে দেব, উঠতে দেব না, তাহলে তো হবে না। তাহলে অন্যদিকে যাবে, গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে। ইংল্যান্ডে কি কমিউনিস্ট পার্টি ব্যান? ব্যান না। আমেরিকাতে কি বাম রাজনীতি ব্যান? আমেরিকায় যারা সরকারের ঘোরতর বিরোধিতা করে, তাদের কি আমার মতো এই পরিণতি ভোগ করতে হয়?

প্রথম আলো: বিএনপি বলে আসছে, বিএনপি যে আন্দোলনটা করছে, সেটা মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন। এখন পর্যন্ত সে আন্দোলন কতটুকু সফল হয়েছে বলে মনে করেন?

বিষ্ট কুমার সরকার: বিএনপি সাধারণ মানুষের জন্য আন্দোলন করছে। বিএনপির আন্দোলন গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। বিএনপি ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য অতীতে আন্দোলন করেছে। আগামী সময়েও করবে। আমরা সাধারণ কর্মীরা মনে করি, মানুষের ভোট ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন কার্যকর হবে।

মির্জা ফখরুল: প্রথম সাফল্য যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকছেন। এটি প্রথম সাফল্য। আমি মনে করি, এটা আন্দোলনের ফল।
প্রথম আলো: এর বাইরে আর কী কী অধিকার আপনারা ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

বিষ্ট কুমার: যেকোনো নাগরিককে যদি অগণতান্ত্রিকভাবে হয়রানি করা হয়, তবে আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাব। অতীতে যেমন আমরা এ লড়াই চালিয়েছি।

মির্জা ফখরুল: আমরা চেষ্টা করছি। এত সহজ তো নয়। আমরা বরাবরই বলছি যে আওয়ামী লীগের চরিত্র হচ্ছে নিপীড়নমূলক। তারা এত সহজে সবকিছু দেয় না। আমরা গণতান্ত্রিক দল, আন্দোলন করি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, শান্তিপূর্ণভাবে। যত দূর সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের যদি বোধোদয় না হয়, জনগণই একদিন তার অধিকার আদায় করে নেবে।

প্রথম আলো: ইসি নিয়ে সংলাপ শুরু হয়েছে। আপনারা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি আপনাদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে একটা কমিশন হয় এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, বিএনপির অবস্থান কী হবে?

বিষ্ট কুমার সরকার: এটা তো কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত দেবে। সেই মোতাবেক আমরা চেষ্টা করব। কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি দিলে তৃণমূল থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। ভবিষ্যতেও করতে পারব।

মির্জা ফখরুল: আমাদের অবস্থান আমাদের প্রস্তাবে আমরা পরিষ্কার করে বলেছি। আমরা বলেছি যে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন হলেই শুধু হবে না। ওই সময়ে নির্বাচনকালীন ওই নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে সাহায্য করবে, এ রকম একটি সরকার দরকার। সেটাকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সে প্রস্তাব রেখেছি।

প্রথম আলো: ইসি গঠনে বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে, রাষ্ট্রপতির সংলাপ সেটি যদি ব্যর্থ হয় বা প্রস্তাব মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বিএনপির অবস্থান কী হবে?

বিষ্ট কুমার সরকার: এটাও তো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করি, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে। আর বিএনপির প্রস্তাব না মানা হলে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

মির্জা ফখরুল: আমরা তো সেটা মেনে নেব না। আমরা যদি দেখি একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন হচ্ছে না, তাহলে ধরে নিতে হবে যে নিরপেক্ষ নির্বাচনও হবে না। ধরে নিতে হবে যে সরকার চায় না দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাক। যে কারণে আমরা সেটা মেনে নেব না। আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেব।

প্রথম আলো: এত দিন আপনারা বলেছিলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা। এখন বলছেন নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার। তাহলে কি বিএনপি অবস্থান থেকে ছাড় দিচ্ছে?

বিষ্ট কুমার: বিএনপি ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তবে গণতান্ত্রিকভাবে যদি প্রস্তাব আসে, তবে ছাড় দেওয়া যেতে পারে। আর বিএনপির প্রস্তাব যদি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুসারে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

মির্জা ফখরুল: টার্ম কি বললাম না বললাম, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয়। অবস্থাভেদে আমরা ছাড় দিচ্ছি তো। ওটাকে ধরে নিয়ে কথা বলতে হবে।

প্রথম আলো: ৫ জানুয়ারির প্রথম বর্ষপূর্তিতে আপনারা একটা লাগাতার কর্মসূচি দিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস সে কর্মসূচি ছিল। ২০১৬ সালে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে বিএনপি ছিল না। নতুন বছরে আপনাদের কর্মসূচি কী হবে?

বিষ্ট কুমার সরকার: এটা তো কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত দেবে। সেই মোতাবেক আমরা চেষ্টা করব। কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি দিলে তৃণমূল থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। ভবিষ্যতেও করতে পারব।

মির্জা ফখরুল:
 এখনই জানতে পারবেন না এটা। আমরা সিদ্ধান্ত নেব, সভা হবে।

প্রথম আলো: ২০১৭ সালে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

বিষ্ট কুমার সরকার: তৃণমূলের একজন নেতা হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, নতুন বছরে বিএনপি আরও এগিয়ে যাবে। বিএনপি কোনো সময় মারামারিতে বিশ্বাসী নয়। অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। আমরা বিশ্বাস করি, সবকিছুর সমাধান শান্তিপূর্ণভাবে হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিষ্ট কুমার সরকার। ছবি: মাহবুবুল হকমির্জা ফখরুল: বাংলাদেশের রাজনীতি কিন্তু বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটের বাইরে নয়। আপনি দেখেছেন, এখানে জঙ্গিবাদের একটা বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। দুঃখজনকভাবে আমরা যেটা লক্ষ করছি, এটাকে সরকারই কিন্তু তুলে ধরছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার ব্যাপারে আমরা যে আহ্বান জানিয়েছিলাম, সে আহ্বানে তারা (সরকার) সাড়া দেয়নি। আর রাজনীতি কোন দিকে যাবে, সেটাও কিন্তু নির্ভর করবে সরকারের ওপর। সরকার কীভাবে রাজনীতি চালাতে চায় দেশে, সরকার কীভাবে তার রাজনীতিকে দেখতে চায় এ দেশে—কারণ সরকারই এখন নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে। তাকে অপশনগুলো ঠিক করতে হবে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি সত্যিকার অর্থে একটি ভালো পার্লামেন্ট চান? একটা কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক, সমন্বিত সংসদ চান? নাকি তিনি তাঁর মতো করে একদলীয় পার্লামেন্ট চান? শুধু তিনি রাজনীতি করবেন, তাঁর দল রাজনীতি করবে, অন্যরা কেউ করতে পারবে না—এ ধরনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে যদি আসলেই বহুমাত্রিক একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করতে চান, তাহলে সেটা হবে। না হলে চলতেই থাকবে এই অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা। আমরা কখনো আন্দোলন করব, কখনো মার খাব, কখনো জেলে যাব—চলতেই থাকবে। তাহলে বাংলাদেশে শান্তি আসবে কবে? রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে কবে?
২০১৭ সালের জন্য আমাদের যে আহ্বান, অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, জনগণের নিরাপত্তা, উন্নয়নের স্বার্থে ঐকমত্য জরুরি। একই সঙ্গে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত, যে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ হবে।

প্রথম আলো: সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বিষ্ট কুমার: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

মির্জা ফখরুল: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।
mongsai79@gmail.com

Comments